সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ঘটনায় মামলাহীন পরিস্থিতি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে অবরোধের ঘটনার পর এবার প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও নিয়ে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে ঘটনার একদিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
মঙ্গলবার পৌর এলাকায় বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুপুরে পৌর এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদসংলগ্ন মাইক্রো স্টেশন এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে জনজীবনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন।
এই সংঘাতের রেশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যারিকেড দেওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে শত শত দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও র্যাব-৭-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অচিরেই অস্ত্রধারী ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির লক্ষণ। এ ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
