সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি জনমনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা

সাগরবেষ্টিত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় গত আট থেকে দশ দিনের ব্যবধানে একের পর এক অপমৃত্যু, শিশু নিখোঁজ, সাংবাদিক নির্যাতন ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় পুরো জনপদজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সাধারণ বাসিন্দাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
নৌরুটে চাঁদাবাজির জেরে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসার অভাবে সিরাজউদ্দীন (৭২) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘাটে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় জনরোষ তৈরি হলেও উপজেলা প্রশাসন বা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। যদিও চাঁদাবাজির অভিযোগে শহিদুল ইসলাম নামে এক ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২০ আগস্ট সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন মনিকে অপহরণের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কোরআন হাফেজ রায়হানকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং কালাপানিয়া মাদ্রাসা মার্কেটে হাসান সওদাগর নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২৩ আগস্ট তুলাতলী বাজারে ব্যবসায়ী আকবর হোসেনের দোকানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
সারিকাইত ও হারামিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোরী আফরিন ও গৃহবধূ সুকতারা বেগমের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গাছুয়া ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আরও দুই তরুণের অপমৃত্যু এবং মুছাপুর, মগধরা ও দীর্ঘাপাড় আশ্রয়ন প্রকল্পে তিন নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি শিশু নিখোঁজ হলেও ক্ষোভ ও ভয়ে অনেক পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীদের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৩ আগস্ট নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে নিয়ে হেনস্তা করা হয়। রাজনৈতিক চাপে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক সরকারি কর্মকর্তা দ্বীপ থেকে বদলির চেষ্টা করছেন। সন্তোষপুর ইউনিয়নে ব্যক্তিগত প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উসকানি দিয়ে সংঘাত তৈরির অপচেষ্টাও চালানো হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিম সোহাগ ও শামসুল আরিফ ফাহিম মনে করেন, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই অপরাধীরা এমন সাহস পাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
