গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তিনি লোডশেডিংয়ের এই বাস্তবতাকে জনদুর্ভোগের চরম পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগের বিষয়ে মন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বিগত পহেলা মে’র মধ্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মন্ত্রী। নির্ধারিত সেই সময়ের পর এক মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সার কারখানাটি সচল হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা তলব করেন।
উত্থাপিত এসব প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, সার কারখানার চেয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দেওয়া তাদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার। জ্বালানি সংকটের কারণে দুটি ক্ষেত্রেই সমানতালে গ্যাস সরবরাহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, বিগত ১৭ বছরে গ্যাস উত্তোলনের জন্য নতুন কোনো কূপ খনন বা ড্রিলিং করা হয়নি। বর্তমান সরকারই নতুন করে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করে বলেন, নতুন কূপ থেকে গ্যাস পাওয়ার পর আশুগঞ্জ সার কারখানাটিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।