বিলীন হচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খেরো খাতা

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন হিসাবের খাতা কেনার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবার ফিকে হয়ে উঠেছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিনেও ঢাকার শাঁখারীবাজারসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বিপণিবিতানগুলোতে লাল কাপড়ে মোড়ানো খাতার বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে। ডিজিটাল হিসাব পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই খাতাগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী মো. মহিদুল ইসলাম দীর্ঘক্ষণ ধরে “দাদা খাতা নেন, খাতা নেন” বলে হাঁকডাক দিলেও কোনো ক্রেতার দেখা পাননি। তিনি জানান, বছরের প্রথম দিন হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন খাতা ব্যবহার করেন। তবে এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। বেলা ১১টা বেজে গেলেও তাঁর এক টাকাও বেচাকেনা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই তাঁদের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকূলে নেই, যদিও গতকাল ও পরশু সামান্য বিক্রি হয়েছিল।

শাঁখারীবাজারে গত ১৫ বছর ধরে টালি খাতা বিক্রি করছেন আব্দুর রশিদ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ থেকে এক দশক আগেও বৈশাখকে ঘিরে ব্যাপক বেচাকেনা হতো, কিন্তু বর্তমানে তার অর্ধেকও হচ্ছে না। তাঁর মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ পরিচালনার প্রবণতা বৃদ্ধিই এর অন্যতম কারণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামীকাল পয়লা বৈশাখ উদযাপন করবেন, তাই আজ হয়তো কিছু বিক্রি হতে পারে।

অপর ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কমেছে, যা পরোক্ষভাবে তাঁদের খাতা ব্যবসায়ও মন্দা এনেছে। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা এখন খাতার পরিবর্তে কম্পিউটার ও এক্সেল শিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ঐতিহ্যবাহী খাতার কদর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন সরকার নতুন খাতা কিনতে এসে জানান, পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ চৈত্র সংক্রান্তি এবং কাল পয়লা বৈশাখ। তিনি নতুন বছরে নতুন খাতায় হিসাব চালু করবেন। প্রতিবছরই তাঁরা নতুন খাতা কেনেন এবং তাঁর বিশ্বাস, ডিজিটাল পদ্ধতি প্রচলিত হলেও খাতার প্রয়োজনীয়তা কখনোই শেষ হবে না।

0%
0%
0%
0%