Advertisement

তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বরণ করতে মরিয়া নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে দফায় দফায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান এই সফরকে ঘিরে তৈরি করেছে এক জটিল প্রেক্ষাপট।

সফরের প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সম্প্রতি এক বার্তা প্রকাশ করা হয়, যেখানে জানানো হয় যে রাষ্ট্রপতি ভবনের নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা দিলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই বার্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই ঘটনা ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে থাকা বিশেষ আগ্রহ এবং সফরের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ স্পষ্ট করেছেন যে, দিল্লির পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণের কেন্দ্রে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসার পর, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। দিল্লি জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবে এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো সমান্তরাল নয়।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করেও দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের পারস্পরিক লেনদেনের বিষয়টি এই সম্পর্কের ভিত্তি। গত কয়েক দশকে দুই দেশের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার যে উন্নয়ন হয়েছে, তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দিল্লি চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে বিষয়টি ঢাকার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। হাসিনা সম্প্রতি ভার্চুয়াল মাধ্যমে তার সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেখ হাসিনা ইস্যুর সমাধান ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ উত্তরণ কতটা সহজ হবে—তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। আপাতত, এই সফরের ভাগ্য নির্ভর করছে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ওপর।

0%
0%
0%
0%