Advertisement

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে কেবল মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে, বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারের নিজভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা এই সংকট যাতে আরও দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে এখনই উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার ঢাকায় ‘১০ বছরে যাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট: মানবিক সাড়াদান থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এবং অক্সফামের যৌথ আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশের সাত বছর পূর্তির প্রাক্কালে তিনি এই সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক দশক আগে মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এই মানবিক পরিস্থিতি বর্তমানে একটি জটিল রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। কোনোভাবেই এই দশকব্যাপী সংকটকে আরও এক দশক প্রলম্বিত হতে দেওয়া উচিত নয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের কেবল বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিলেই চলবে না; তাদের নিজ ভিটায় মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। তবে এই বোঝা কেবল বাংলাদেশের একার ওপর ছেড়ে দেওয়া নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও আস্থার সাথে নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ১০ বছর একটি রাষ্ট্রের জন্য নীতি নির্ধারণের সময় হলেও, শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য এটি তার পুরো শৈশব। একজন তরুণের জন্য এটি শিক্ষার সুযোগ হারানো এবং একটি পরিবারের জন্য দীর্ঘ এক দশক ঘরহীন থাকার যাতনা। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের সাথে জমি ও সম্পদ ভাগ করে চলায় তাদের জীবিকা ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট যেহেতু মিয়ানমারে সৃষ্টি হয়েছে, তাই এর সমাধানও সেখানেই করতে হবে। শরণার্থী ক্যাম্প রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ঠিকানা হতে পারে না। বর্তমানে মিয়ানমারের সাথে আস্থা তৈরির প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অপরিহার্য।

এ সময় তিনি চীনের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে প্রতিশ্রুতির কথা দিয়েছিলেন, তা চীনের পরবর্তী কার্যক্রমে প্রতিফলিত হবে বলে সরকার আশাবাদী। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

0%
0%
0%
0%