Advertisement

নিয়োগ বিধি জটিলতায় সিডিএ থেকে আট ইমারত পরিদর্শকের চাকরিচ্যুতি

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আট ইমারত পরিদর্শক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যথাযথ পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে যোগদানের পাঁচ মাস পর ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বিধি সংশোধন না করেই বিলুপ্ত ডিগ্রি ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খেসারত দিতে হচ্ছে এসব তরুণ প্রকৌশলীকে।

গত ৬ জুলাই কর্তৃপক্ষের এক নোটিশে অব্যাহতি পাওয়া এই আটজন হলেন অনয় সিংহ সুজাত, দ্বিন ইসলাম লিমন, আব্দুর রহমান রিয়াদ, তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল, মাহিদুল হাসান, ইকরামুল হক, ইজতিয়াদ ইসলাম খান ও শরিফুল ইসলাম। এর আগে কুড়িগ্রামের শাকিরা আক্তার বিথি নামে আরেকজন বেতন না পেয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। নিয়োগের শর্তাবলীতে উচ্চ মাধ্যমিকের সমমান ও সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, বর্তমানে প্রচলিত চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী হওয়ায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সিডিএ তাদের সনদ কয়েক দফা যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছিল। অনেকে সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র মতো ভালো চাকরি ছেড়ে সিডিএ’র এই পদে যোগ দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ অব্যাহতি পাওয়ায় তারা বেকারত্ব ও চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোবারক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে সিডিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের পর থেকে সার্ভে ফাইনাল নামে কোনো ডিগ্রি নেই, বরং সার্ভেয়িং টেকনোলজিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা দেওয়া হচ্ছে, যা কারিগরি শিক্ষায় উচ্চমাধ্যমিকের সমমান।

সিডিএ’র সচিব মাহবুবুল করিম গত ২৩ এপ্রিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি ১৯৯০ সংশোধনের আবেদন করেছিলেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নীতিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদায়ন সহজতর করতে সনদের নাম ও যোগ্যতার শর্তাবলি সংশোধন করা হয়েছে। তবে সিডিএ সেই পথ অবলম্বন না করে উল্টো নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর দায় চাপিয়ে চাকরিচ্যুতি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এবং নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে, সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে নিয়োগ বিধির ত্রুটি সংশোধন না করে এমন পদক্ষেপ নেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হারানো চাকরি ফিরে পেতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%