শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সৌজন্য তৃণমূল পর্যন্ত না পৌঁছালে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য তাসনিম জারার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সৌজন্য ও বোঝাপড়ার চর্চা তৃণমূল পর্যায়ে অনুপস্থিত। গত বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় রাজনীতির এই বিচ্ছিন্নতাই মাঠপর্যায়ে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।
নিজের পোস্টে তিনি দুটি ঘটনার অবতারণা করে জাতীয় নেতৃত্বের শিষ্টাচারের প্রশংসা করেন। তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পরম সম্মানে নিজের পাশে বসিয়ে জাতীয় ঐক্যের উদাহরণ তৈরি করেছেন। একই দিনে আরেকটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে ডেকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান, যা রাজনৈতিক উদারতার একটি বড় দৃষ্টান্ত বলে তিনি মনে করেন।
তবে এই ইতিবাচক ধারার বিপরীতে হবিগঞ্জের মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি আলোকপাত করেছেন তিনি। গত ২৮ জুলাই এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক ১৮ বছর বয়সী আলিফ চৌধুরী গুরুতর আহত হন। এই হামলায় লোহার রডের আঘাতে আলিফ তার বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাসনিম জারা ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া যদি তৃণমূল স্তরে কার্যকর থাকত, তবে হয়তো আলিফ চৌধুরীর মতো তরুণ কর্মীকে এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হতো না। জাতীয় নেতৃত্বে আলোচনার পরিবেশ বিদ্যমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে ঘৃণা, হুমকি ও সংঘাতের সংস্কৃতি ক্রমাগত শিকড় গেড়ে বসছে বলে তিনি মনে করেন।
পরিশেষে, তৃণমূলের কর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় রাজনীতির এই সৌজন্যবোধ ও সংলাপের সংস্কৃতিকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিক হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব এবং তরুণ কর্মীদের মূল্যবান জীবন ও স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করা যাবে।
