অডিট প্রতিবেদন জমা না দেওয়া রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ। সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি দল প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়েছে।
ইসি সচিবের ভাষ্যমতে, অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ৩১ জুলাই। সরকারি ছুটির কারণে তা ২ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন জানালেও আটটি দল কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। আইন অনুযায়ী, এসব নিষ্ক্রিয় দলগুলোকে নোটিশ প্রদানের পাশাপাশি পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন আয়োজনের পূর্বপ্রস্তুতি প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিধিমালা সংশোধন, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কমিশন ইতোমধ্যেই এসব কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণের জন্য ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়, তবে সার্বিক প্রস্তুতির জন্য প্রায় তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত বিধানগুলো কঠোর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে সচিব জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচনের প্রয়োজনে প্রয়োজনে সম্পূরক ভোটার তালিকাও প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে কমিশনের। তবে আপাতত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে কোনো সংলাপের সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
