সংযুক্ত আরব আমিরাতে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে দেড় মাসেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। গত ৩০ জুলাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মুক্ত হওয়ার পর তিনি ইউরোপের কোনো দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বর্তমানে তার দুবাই ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তার পাসপোর্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের এই মুক্তি ঘিরে নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা ও প্রশ্ন উঠেছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো না, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর কাছে একজন পলাতককে শনাক্ত বা সাময়িকভাবে আটক রাখার অনুরোধমাত্র। কাউকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং এটি অভিযুক্তের আইনি লড়াই, মামলার নথিপত্র, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনের ওপর নির্ভরশীল। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। দুবাইভিত্তিক সাংবাদিক সাইফুর রহমান জানান, যদি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধভাবে বসবাস করেন এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ রাখেন। এর আগে আরাভ খান মামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আইনি জটিলতায় ইন্টারপোলের নোটিশ থাকার পরও তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, বেনজীর আহমেদ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব নিয়েছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। এরপরই তিনি দেশত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।
