রুটির ভেতরে ব্লেডকাণ্ডে শিক্ষিকা বরখাস্ত ঘটনার নেপথ্যে ছাত্রীর ভয়

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুটির ভেতর ব্লেড পাওয়ার ঘটনাটি সাজানো বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং বিদ্যালয়েরই এক শিক্ষার্থী কৌশলে রুটির ভেতরে ব্লেডটি লুকিয়ে রেখেছিল।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ জানান, কারখানায় রুটি তৈরির প্রতিটি ধাপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রুটির ভেতরে অক্ষত ব্লেড ঢুকে পড়া প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ছিল প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, সংশ্লিষ্ট এক ছাত্রী ভুলবশত একটি ব্লেড তার ব্যাগে নিয়ে স্কুলে আসে। শিক্ষিকার শাস্তির ভয়ে ব্লেডটি লুকিয়ে রাখতে সে রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে ব্লেডটি রাখে। পরবর্তীতে অন্য এক শিক্ষার্থী বিষয়টি দেখে ফেললে ধরা পড়ার ভয়ে প্রথম ওই ছাত্রী নিজেই শিক্ষিকার কাছে গিয়ে রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ তোলে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন জাহান বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ান। তিনি কোনো প্রকার তথ্য-উপাত্ত যাচাই ছাড়াই রুটির ভেতরের ব্লেডের ছবি তুলে বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেন। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দায়ে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকৃত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
