সাত জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত সাতটি জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে এসব নদীর পানির স্তর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
বৃহত্তর নদ-নদী অববাহিকার অবস্থা জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। এতে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে প্লাবনের সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের প্রভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নদ-নদীগুলোতে আগামী ২৪ ঘণ্টা উচ্চ জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর ও কর্ণফুলীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোর পানিস্তর পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।