শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও অবস্থান কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনে অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নপত্রে অসংগতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত। বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের প্রবেশমুখে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ত্রুটিপূর্ণ পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণার তিন দফা দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা এবং প্রশ্নের মান অস্বাভাবিক কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন জানান, শিক্ষামন্ত্রীকে তার অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে।
রাজধানীর বাইরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি কুমিল্লা ও বগুড়াতেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরায় অবরোধের কারণে দীর্ঘসময় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। রামনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রব্বানী হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে সড়কগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ১২ থেকে ১৫টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত অভিযোগ করেন, আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি ভুল ছিল এবং বাকিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার স্তরের ছিল। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং আগামীদিনের পরীক্ষার পর আবারও তারা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।