তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন অঙ্গীকার আইনমন্ত্রীর

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ সুগম হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারণার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল উত্থাপনের মাধ্যমে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করেছিল।
গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা বিধান করা। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—এই গণতান্ত্রিক নীতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই বলেই বিএনপি রাজনৈতিকভাবে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
এর আগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন। আইনজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান পুনরায় কার্যকর হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর বলে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।