নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বিজ্ঞাপন

আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফল ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি সীমান্ত ও সমাজ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের একটি মানবিক সংকট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেকেই পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বা সি-নিক লাভে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন, যার ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তানি মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সফল অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগকে অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রস্তাব রাখেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকের শেষে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে এই সফর সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। দুই দেশের মন্ত্রীই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

0%
0%
0%
0%