সেবাখাতে দুর্নীতির বিস্তার উদ্বেগজনক পাসপোর্ট ও বিআরটিএ ঘুষের শীর্ষে

দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতি ও ঘুষের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। টিআইবির এই জরিপ অনুযায়ী, দেশের ১৮টি সেবা খাতের মধ্যে পাসপোর্ট অফিস সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সেবা গ্রহণকারী ৮১.৬ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, যা ২০২৩ সালের ৭০.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এ সময় ৬৩.৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাত থেকে সুবিধা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। জরিপে উঠে এসেছে যে, পাসপোর্ট সেবা খাতে ঘুষ প্রদানের হার সর্বোচ্চ ৭৬.৬ শতাংশ। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), যেখানে ঘুষের হার ৬৩.৫ শতাংশ।
তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কৃষি খাত, যেখানে উভয় ক্ষেত্রেই ঘুষের হার ৪৯.৩ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা ভূমি সেবা খাতে ঘুষের হার ৪৭.৬ শতাংশ। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ১.৫৮ শতাংশের সমপরিমাণ। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই—এমন নেতিবাচক ধারণা সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও তার সুফল মিলছে না। দুর্নীতি ও ঘুষের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট হচ্ছে, যেখানে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এবং নারীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর। টিআইবির এই জরিপ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি মানুষের আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে, কারণ মাত্র ০.৯ শতাংশ ভুক্তভোগী দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।
দুদকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, গত প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে কমিশন না থাকায় সংস্থাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সার্চ কমিটির মাধ্যমে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিশন পুনর্গঠনের জোর দাবি জানান। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
