দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার প্রতিবাদে ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই নিজের সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, তিনি সেখানে ব্যক্তিগত সফরে যাননি, বরং সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবেই গিয়েছিলেন। ফলে তাকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো অনিবার্য ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এক পর্যায়ে তাকে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের জোর প্রচেষ্টা চালালেও তিনি তাতে সম্মত হননি। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেছেন, এই অন্যায্য আচরণের বিপরীতে রাষ্ট্রীয় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটানো জরুরি ছিল। ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন, বিচ্ছিন্ন এই ঘটনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ ঢাকা সর্বদা নয়াদিল্লির সঙ্গে যৌক্তিক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, গত রোববার ভারতের ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ বা আইওআরএ-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। কিন্তু দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। অথচ এই সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই বাংলাদেশ সরকার যথাযথভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল।
পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি সেই সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আচরণের বিষয়ে ভারতের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।