সুখী, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বাসসের তথ্যানুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সমতলে বসবাসরতদের ভূমি মালিকানা সমস্যা নিরসনে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান এবং বসতি উচ্ছেদ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরেন। এ ছাড়া জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন ও ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের দাবি জানান তারা।
দেশের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার দেশের অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তার দাবি, বিগত বছরগুলোতে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার কারণে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে, যা সমাধান করা সম্ভব হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক দাবি পূরণ করা যেত। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে বর্তমান জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
উন্নয়নের তথাকথিত বয়ান নিয়ে সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ে উন্নয়নের যে গল্প শোনানো হতো, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বর্তমানে সব চাপ বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিকূল অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে সরকারের বর্তমান পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এখন এসব হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিসসহ জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর কর হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।