ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি থেকে সরে এসে বিকল্প সড়ক যোগাযোগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন ভোলার সর্বস্তরের মানুষ। ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, ২২ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের পরিবর্তে বিকল্প সড়কপথ ও ছোট তিনটি সেতুর যে প্রস্তাবনা নেওয়া হয়েছে, তা ভোলার মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের পরিপন্থী।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর মোশারফ অমি বলেন, নির্বাচনের আগে ভোলাবাসীকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা সব মহলের সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ভোলা-বরিশাল সেতুর পরিবর্তে ২১ কিলোমিটার হাইওয়ে ও ৩৬ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়ক্ষেপণের নামান্তর। দীর্ঘ সময় ধরে সেতুর বাস্তবতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের উন্নয়নের বিরোধিতা না করলেও ভোলার স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন মেনে নেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, একটি চিহ্নিত মহল ভুল বুঝিয়ে এই সড়ক পথের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। অবিলম্বে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা এই প্রকল্পের বাস্তবতা পুনরায় যাচাই করে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাখাওয়াত হোসেন শাকিল, আরিফ আহমেদ, কামরুল হাসান, মেহেদী হাসান, ইমরান হোসাইন, শরীর হাওলাদার, নাসরিন পাহান ও আহমেদ ঈশানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। ভোলার জনগণের দীর্ঘদিনের এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর দাবি জানিয়েছেন তারা।