জ্বালানি সংকট নিরসনে যৌথ কমিটি: ৫ বিরোধী এমপির নাম প্রস্তাব

জাতীয় সংসদ, ২৩ এপ্রিল: দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিতব্য দশ সদস্যের যৌথ কমিটির জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এই প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর মধ্য দিয়ে সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ কার্যক্রমের পথ সুগম হলো।

বিজ্ঞাপন

এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জাতীয় সংসদে দশ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের কাছে তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম মনোনয়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সদস্যরা হলেন: জামায়াতে ইসলামীর মো. সাইফুল আলম (ঢাকা-১২), মো. নুরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) এবং মো. আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬)। এছাড়াও এনসিপির মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫) এই কমিটির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, সরকারি দল ইতোমধ্যে তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলও তাদের সদস্যদের নাম পেশ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তবে সমতা নিশ্চিত করতে সংসদ কমপ্লেক্স থেকেই তা শুরু করা যেতে পারে। তার মতে, ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতো সংসদ এলাকাতেও লোড ব্যবস্থাপনা কার্যকর হওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

তবে স্পিকার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন যে, সংসদে লোডশেডিং হলে অধিবেশন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্টীকরণ করে বলেন, তিনি অধিবেশন কক্ষে নয়, বরং সংসদ কমপ্লেক্সের অন্যান্য এলাকায় লোডশেডিংয়ের কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধানের উদ্দেশ্যে এই দশ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং এতে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে পাঁচজন করে মোট দশজন সদস্য থাকবেন। সরকারি দলের প্রস্তাবিত সদস্যরা হলেন: মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এবং সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২) ও মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩)।

0%
0%
0%
0%