AdvertisementAdvertisement

সরকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের ভাড়া বহাল

বাস ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ

সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানো যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংগঠনের মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোরভাবে নির্দেশনা পালন করতে বলা হয়েছে।

তবে, বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের কাছে ভাড়া সমন্বয়ের আহ্বানও জানানো হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, সরকারের কোনো ঘোষণা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ও শাহবাগ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বল্প দূরত্বের বাসে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রী সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, আগে ১০ টাকা ভাড়া হলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা অনেকের জন্য বাধ্য হয়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

দূরপাল্লার রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রী নুর নবী মোস্তফা জানান, কক্সবাজার ও সিলেটগামী বাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া এখন ৬৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের। চালকদের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় প্রয়োজন বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃষা পরিবহনের এক চালক জানান, তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বাড়বে, পাশাপাশি তেল সংগ্রহেও সমস্যা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া নৈরাজ্য’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার প্রভাব বাস ছাড়াও লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং সেবার ওপরও পড়ছে। সাধারণ যাত্রীরা এই অস্থিরতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%