কলকাতার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের শেড ধসে পড়ে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে গুরুতর আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন বিশাল আয়তনের ওই শেডটি আচমকাই ভেঙে পড়ে নিচে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মীদের ওপর আছড়ে পড়ে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ড্রোন ও অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে আরও পাঁচ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, কংক্রিটের স্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন, যাদের প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।
এই বিপর্যয়ের ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। গোডাউন তৈরির বরাত পাওয়া ঠিকাদার আসগার হুসেইন নিজেও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ জমিটির লিজ হোল্ডার শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্মাণে কোনো বেআইনি পদ্ধতি বা নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ১৭ বছর বয়সি সাহিল সর্দার মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে এই অকাল মৃত্যুর শিকার হয়। অন্যদিকে, মাত্র দেড় মাস আগে কাজে যোগ দেওয়া কাটোয়ার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি রোহিত চৌধুরীর পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কতজন আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। যতক্ষণ না শেষ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে, ততক্ষণ উদ্ধারকাজ চলবে বলে জানিয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকরা। শহরের বুকে এমন ভয়াবহ নির্মাণ-বিপর্যয় আবারও প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।