তৃণমূলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দিল্লিতে লড়াই, পাল্টা একুশের সমাবেশের প্রস্তুতিতে মরিয়া মমতা

একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সংকট চরমে উঠেছে। একদিকে দলীয় প্রতীকের দখল নিতে বিদ্রোহী শিবিরের ১০ জন বিধায়ক নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বেইমানদের’ দল থেকে চিরতরে মুছে ফেলার বার্তা দিয়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ এই ভাঙন ও শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরের। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে—এই দাবি তুলে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের বৈধ মালিকানা পাওয়ার লক্ষ্যে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, গত ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী সমিতি গঠন করা হয়েছে এবং সেই বৈধতার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন তাঁদের শুনানির জন্য ডেকেছে।

বিদ্রোহী শিবিরের এই তৎপরতার বিপরীতে দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাসে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলত্যাগী বা বীরোহী নেতাদের আর কোনোভাবেই দলে ফেরানো হবে না। দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে ফোনে দেওয়া বক্তব্যে মমতা স্পষ্ট করেন যে, নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই তাঁর প্রকৃত শক্তি এবং তাঁদের নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি, ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ যে কোনো মূল্যে সফল করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সমাবেশের অনুমতি আদায়ের প্রশ্নে তৃণমূল নেতৃত্ব কলকাতা পুলিশের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের আগেই নির্বাচন কমিশন প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো বড় ঘোষণা দিতে পারে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে সক্ষম। বিশেষত, অতীতে নেত্রীর বিদ্রূপের শিকার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা রাজ্য।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%