নিট পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিমানবন্দরে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়া লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এক নজিরবিহীন সৌজন্যের পরিচয় দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দুপুরে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর নির্ধারিত সময়সূচী থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট সেখানে অপেক্ষা করেন, যাতে তাঁর কনভয় চলাচলের কারণে রাজধানীর রাস্তায় কোনো প্রকার যানজট সৃষ্টি না হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী কোনো বাধা ছাড়াই সময়মতো নিজেদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রথা অনুযায়ী বিমানবন্দর থেকে তাঁর বাসভবনে যাওয়ার কথা থাকলেও, দুপুর ২টায় নিট-ইউজি পরীক্ষা শুরু হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেননি। মূলত প্রধানমন্ত্রীর কনভয় চলাচলের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করতে হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। দুপুর ২টার পর পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি বিমানবন্দর থেকে সরকারি বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পূর্বের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর এবার অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ জানিয়েছে, এবার দেশের ৫,৪৪০টি কেন্দ্র এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্র মিলিয়ে ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ৯৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষাকক্ষে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত জালিয়াতি রুখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ৫১ হাজারেরও বেশি সিগন্যাল জ্যামার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রায় ৬,৭০০ জন পর্যবেক্ষক, ১০০-র বেশি ভার্চুয়াল মনিটর, ৩৯ হাজার তল্লাশি কর্মী এবং ৪৮ হাজারেরও বেশি বায়োমেট্রিক যাচাই কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। স্নাতক স্তরের মেডিক্যাল শিক্ষায় ভর্তির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা যাতে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়, তার জন্য যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%