ভারতর মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট’ বা টেট পরীক্ষা নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় তড়িঘড়ি করে পুরো পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
আগামী শনিবার, ২৮ জুন রাজ্যের ১,০২৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানে জেলার ভিওয়ান্ডি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কিছু নথিপত্র উদ্ধার হয়, যা প্রাথমিক তদন্তে টেট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মহারাষ্ট্র স্টেট এক্সামিনেশন কাউন্সিলের পরিচালক নন্দকুমার বেডসে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র যাচাইয়ের পর জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা রক্ষার্থেই এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে কাউন্সিল দাবি করেছে।
সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ের নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে মহারাষ্ট্র সরকার টেট পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ থেকে শুরু করে পরিবহণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছিল। তবুও এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় শিক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে মহারাষ্ট্র স্টেট এক্সামিনেশন কাউন্সিল জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুতই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।