মৌলভীবাজারে হাম ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় ও মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

মৌলভীবাজার জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের রোগীর সংখ্যা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালে বেডের সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী, যার ফলে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ১,৭৫৮ জন হাম উপসর্গের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে ১৫৮ জনের হাম এবং দুজনের রুবেলা রোগ ধরা পড়েছে। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ল্যাব টেস্টের ফল পেতে সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সদর হাসপাতাল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন রোগী ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিনই ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ জন, শিশু স্কেনো ওয়ার্ডে ১৮ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮১ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দুজন রোগী ভর্তি আছেন। জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এবং এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন।

রোগীর উপচে পড়া ভিড়ের বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে ৪০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের হাম ক্যাম্পেইন। সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, হামের রোগী না কমা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং এই পর্যায়ে ২১ হাজার ৩৪৪ জনকে নতুন করে টিকা দেওয়া হবে।

উপজেলাভিত্তিক বিন্যাসে জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে বড়লেখা উপজেলায় ২,২২৯ জন, পৌরসভায় ২০৪ জন, জুড়ী উপজেলায় ১,০৪৫ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ৪,৫৭১ জন, সদর উপজেলায় ৩,৩২৬ জন ও পৌরসভায় ৩৪১ জন, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২,৪৭৮ জন, রাজনগর উপজেলায় ৩,২৯৩ জন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩,৬২৬ জন ও পৌরসভায় ২৩১ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে।

০%
০%
০%
০%