AdvertisementAdvertisement

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটে চরম ভোগান্তি ও অক্সিজেন সংকট

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৪৮ শয্যা বিশিষ্ট এই ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৬৭ জন রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শয্যার অভাবে মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ির গোড়া এমনকি বাথরুমের সামনের ফাঁকা জায়গায় মাদুর পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওয়ার্ডটিতে গড়ে দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। ৪৮টি শয্যার বিপরীতে রোগীর এমন অস্বাভাবিক চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ওয়ার্ডে লিফট থেকে নামার পথসহ চলাচলের জায়গাগুলোতে রোগী ও স্বজনদের ভিড় থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব পালনরত নার্সদের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তিনজন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স থাকার কথা থাকলেও এখানে রাতে একজন নার্সকে প্রায় ৫৫ জন শিশুকে সেবা দিতে হচ্ছে। রোগীর অত্যধিক চাপ ও নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের ভিড়ে নার্সরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে নার্সদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।

ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডারের তীব্র সংকট চিকিৎসাসেবার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে শতাধিক শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অন্তত ৪০টি সিলিন্ডার প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে একটি সিলিন্ডার থেকেই একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, যা সংকটাপন্ন শিশুদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও ২০টি সিলিন্ডারের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওষুধের বড় কোনো ঘাটতি নেই এবং দ্রুতই ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর চাপ কমাতে এবং চিকিৎসার মান বজায় রাখতে পৃথক শিশু বিভাগ চালু করা এবং ওয়ার্ডে স্বজনদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সংকট নিরসন করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

0%
0%
0%
0%