ফ্রান্সে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনের বৈধতা নিশ্চিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের বিল বাতিল

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল দেশটিতে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছামৃত্যু বা অ্যাসিস্টেড ডাইং আইনকে বৈধতা দিয়েছে। একইসঙ্গে পনেরো বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। শুক্রবার প্রকাশিত এই দুই বিপরীতধর্মী রায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর জন্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক বিজয়, তেমনি অন্যদিকে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নির্ধারিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে ফ্রান্সের নাগরিক ও বৈধ বাসিন্দারা কঠোর শর্তসাপেক্ষে চিকিৎসা সহায়তায় জীবন অবসানের আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা কেবল তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং যাদের শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণা অসহনীয়। আইনটি পাসের ক্ষেত্রে রোগীদের সম্মতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিবেকের স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিয়েছে কাউন্সিল। ফলে কোনো ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসা কেন্দ্র চাইলে নৈতিক বা পেশাগত কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে।

বেলজিয়াম, জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হওয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান আইনপ্রণেতা এলিজাবেথ বর্ন। গত মাসে ফরাসি জাতীয় পরিষদে ২৯১ জন সদস্যের ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল, যেখানে বিরোধীতা করেছিলেন ২৪১ জন। আইনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুরক্ষামূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, পনেরো বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার সরকারি উদ্যোগ হোঁচট খেয়েছে আদালতের রায়ে। কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল এই আইনটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশের আগে বয়স প্রমাণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করলে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া, আইনপ্রণেতারা এই বিধিমালা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও অস্পষ্ট রেখেছেন।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ তার অন্যতম প্রধান এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন এবং আগামী বছর নির্বাচনের আগেই এটি কার্যকর করতে চেয়েছিলেন। আদালতের রায়ের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লিকর্নুকে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ‘আইনিভাবে শক্তিশালী’ খসড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে বরং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়বদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড মন্তব্য করেছেন যে, নির্বিচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে অ্যালগরিদমের মতো ক্ষতিকর ফিচারগুলো নিয়ন্ত্রণের দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে কোম্পানিগুলোর মুনাফামুখী তৎপরতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা সতর্ক করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%