টালিউডের স্পষ্টবাদী এবং সাহসী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ফের একবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার কোনো সিনেমার সাফল্য বা ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং মানবিকতার মিশেলে তৈরি এক বিতর্কের জেরেই নেটপাড়ায় সরব হয়েছেন এই তারকা। সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে কেক খাইয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে পশুপ্রেমের টানে তাঁদের এই সাক্ষাৎকে অনেকেই অভিনেত্রীর দলবদলের ইঙ্গিত বলে ধরে নিয়েছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়ে অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছেন শ্রীলেখা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কুণাল ঘোষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তটি নিছকই পশুপ্রেমের খাতিরে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুগত নন, বরং বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। এই আদর্শের কারণেই গত দেড় দশকে শাসকদলের কোনো সুযোগ-সুবিধা বা অনুদান নেওয়া থেকে তিনি নিজেকে বিরত রেখেছেন। উল্টো দিকে, সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করার মাশুল হিসেবে নিজের কর্মজীবনে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে।
এদিকে কুণাল ঘোষ নিজেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রীলেখাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পশুপ্রেমের ক্ষেত্রে তাঁরা একমত। শ্রীলেখার কথায়, কোনো সরকার বা রাজনৈতিক শক্তির কাছে মাথা নত করার প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না। বরং নিজের অর্জিত অর্থেই তিনি এবং তাঁর আদরের পোষ্যরা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে পছন্দ করেন।
নিজের কাছে পথপশুদের গুরুত্ব যে সন্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, তা আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্রীলেখা। তিনি জানিয়েছেন, অবলা প্রাণীদের কল্যাণে প্রয়োজনে তিনি যে কোনো মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না, কারণ এক্ষেত্রে অহংকারের কোনো স্থান নেই। সবশেষে ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রীর মার্জিত কিন্তু কড়া বার্তা— অহেতুক বিতর্ক না বাড়িয়ে, সময় থাকলে সবাই অন্তত দুটো বিস্কুট কিনে রাস্তার ক্ষুধার্ত প্রাণীদের মুখে তুলে দিক। কারণ, মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের চেয়েও অসহায় প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার আনন্দ অনেক বেশি মহৎ।