কলকাতার ঐতিহাসিক নজরুল মঞ্চে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় রূপালি পর্দার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল ঢাকাই ও কলকাতার যৌথ বিনোদন দুনিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত সিনেমা ‘দেছু সেভেন’-এর মনকাড়া ট্রেলার, যা ইতিমধ্যে ইউটিউবের ট্রেন্ডিং তালিকায় ঝড় তুলেছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্টে উপস্থিত ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাস আর দুই তারকা দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভশ্রীর করা এক কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে দেবের মুখে শোনা যায় জীবনের নানা অজানা সমীকরণ ও নিয়তির অদ্ভুত ইশারার গল্প।
ইভেন্টের এক পর্যায়ে অভিনেত্রী শুভশ্রী সরাসরি দেবের উদ্দেশে জানতে চান, ‘তুমি আমায় জিজ্ঞাসা করো, আমি যখন ফোন করেছিলাম দুই মিনিটের মধ্যে হ্যাঁ কেন বলেছিলে এই ছবিটাকে। এবার আমি তোমার কাছে জানতে চাই, যখন বিপদে পড়েছিলে তখন আমার নামটাই কেন মাথায় এসেছিল।’ এই অকপট প্রশ্নের উত্তরে দেব একটু হেসে সাবধান করে দিয়ে বলেন, তিনি নিজের মতো করে উত্তর দিলে সেটি কীভাবে নেবেন তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে এরপর তিনি গভীর তত্ত্বে গিয়ে জানান, ‘আমাকে ছবি করতে দেওয়া হবে না বলেছিল পুজোতে। রিলিজ করতে দেওয়া হবে না পুজোতে। সেই দিন থেকে, আজ আমাদের পুজোর ছবির ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্টে আছি। কেমন যেন সময় পালটে যায়, যে লড়াই তখন মনে হয়েছিল কত কঠিন, আজ এতগুলো মাস পেরোনোর পর মনে হচ্ছে কেনই বা শুধু শুধু এত লড়াই করলাম। যোগ্য ছিলাম কি অযোগ্য সেটা পরের কথা। আমার কেমন যেন মনে হয়, সবকিছুর একটা নিয়তি আছে।’
দেব আরও যোগ করেন, হয়তো ‘ধূমকেতু’ ছবির পর এই মঞ্চেই তাঁদের পুনরায় দেখার জন্যই তৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে ছবি করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির নানান চড়াই-উতরাই ও নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এই তারকা বলেন, জীবন তাঁকে কখনোই সবকিছু সহজে দেয়নি। চাঁদের পাহাড় ব্লকবাস্টার হওয়ার পর যখন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তখন থেকে সমালোচকরা তাঁর ছবি ফ্লপ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী শুরু করেছিলেন। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হওয়ার পর নিজের প্রযোজনা সংস্থাও গড়ে তোলেন তিনি। রিমেক সংস্কৃতি বন্ধ করে নতুন পথে হাঁটার চেষ্টা করেন। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে আবারও তাঁকে ছবি করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাঁরই কাছের কিছু বন্ধু ও সহকর্মীরা।
তবুও সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভশ্রীর দিকে তাকিয়ে দেব আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি জানি না তুমি কোন ভাগ্য লিখে নিয়ে এসেছ, বা আমি কোন ভাগ্য লিখে নিয়ে এসেছি। তখন মনে হয়েছিল এই লড়াইয়ে যদি জিততে হয়, তোমাকে দরকার। এই মানুষগুলোর স্বপ্ন যদি সত্যি করতে হয়। এদেরকে বোঝাতে হয় না আমি পরিশ্রম করি। যে আমি চেষ্টা করি। শুধু আমার জন্য নয়, চেষ্টা করি বাংলা ছবিও যাতে আমার সঙ্গে এগিয়ে যাক।’ এই আবেগপূর্ণ বার্তা ও দুই তারকার অনবদ্য উপস্থিতি ‘দেছু সেভেন’ সিনেমার সাফল্যের পথকে আরও বেশি সুগম ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।