স্মৃতির পাতায় ঋতুপর্ণ ঘোষ সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে যে নামে ডাকতেন

বাংলা চলচ্চিত্রের রূপকার, অনন্য প্রতিভার অধিকারী ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রয়াণের এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। আজ যদি তিনি আমাদের মাঝে থাকতেন, তবে হয়তো বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আরও অনেক কালজয়ী সৃষ্টির সাক্ষী হতো। তাঁর সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়ায় রূপালী পর্দায় জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি হতো বারবার। এই কিংবদন্তি পরিচালকের হাত ধরেই অভিনয় জীবনের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
ঋতুপর্ণ ঘোষের সান্নিধ্যে কাজ করা ছিল প্রতিটি শিল্পীরই পরম আকাঙ্ক্ষার বিষয়। তেমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণে ‘বাড়িওয়ালি’ সিনেমায় মালতি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান সুদীপ্তা। তখন তিনি বয়সে অনেকটাই তরুণী, কিন্তু কিরণ খেরের বাড়ির পরিচারিকার চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এই চরিত্রের জন্যই তিনি অর্জন করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি।
সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মবার্ষিকীর আবহে নিজের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলেন সুদীপ্তা। ঋতুপর্ণের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সৃজনশীলতার পাশাপাশি তাঁর ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটিও ছিল বড় অদ্ভুত। তিনি মানুষকে যেমন পরম মমতায় কাছে টেনে নিতেন, তেমনই শাসন করার ভঙ্গিটিও ছিল স্নেহের ছোঁয়া মাখানো। সুদীপ্তাকে ভালোবেসে তিনি একটি অদ্ভুত ডাকনাম দিয়েছিলেন, যা এতদিন আড়ালেই ছিল।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুদীপ্তা বলেন, ঋতুদার শব্দচয়ন ছিল অত্যন্ত নান্দনিক, যা বর্তমান সময়ে বিরল। তিনি আদর করে সুদীপ্তাকে ডাকতেন ‘গুটকে কচুরি’ নামে। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, তাঁর নাক ও মুখের আদল নাকি হুবহু এই বিশেষ খাবারটির মতো, আর সেই কারণেই পরিচালক এই মজাদার নামটি বেছে নিয়েছিলেন। সুদীপ্তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মীর ছাড়া এই ডাকনামের কথা আর কেউই সেভাবে জানতেন না।
এই নাম পাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক মজার ঘটনা। সুদীপ্তা ও মীর তখন একটি সংবাদ সংস্থায় সহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একদিন কাজের ফাঁকে মীরকে সঙ্গে নিয়ে ঋতুপর্ণের বাড়িতে যান সুদীপ্তা। সেদিনই ঋতুপর্ণ দুষ্টুমি করে সকলের সামনেই সুদীপ্তাকে ‘গুটকে কচুরি’ বলে সম্বোধন করেন। পরিচালক রসিকতা করে বলেছিলেন, এত সকালে ঘুম থেকে উঠে লিপস্টিক মেখে কেন এসেছে সে! ঋতুপর্ণের সেই আদুরে উপহাসের সূত্র ধরেই মীর আজও তাঁকে ওই নামেই ডেকে যান, যা সুদীপ্তার কাছে ঋতুপর্ণ ঘোষের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়ে গেছে।
