টক্সিক সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে কিয়ারার সমালোচনায় সোচ্চার স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

‘টক্সিক’ সিনেমার প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই নানা বিতর্কে উত্তাল বিনোদন জগৎ। এই ছবিতে হিংস্রতার পাশাপাশি যৌনতার বাড়াবাড়ি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ‘তবাহি’ গানে যশ এবং কিয়ারা আদবানির অন্তরঙ্গ দৃশ্য নজর কাড়লেও, আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী কিয়ারা। একজন বিবাহিত নারী ও সন্তানের জননী হয়ে পর্দায় এমন সাহসী উপস্থাপনা কেন করলেন, তা নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীর দিকে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় টানাহেঁচড়া করা হচ্ছে তাঁর স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার নামও।
এই পরিস্থিতিতে ট্রোলারদের কড়া জবাব দিয়ে কিয়ারার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার বিতর্কের মুখে পড়া স্বস্তিকা বরাবরই স্পষ্টভাষী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পর্দায় অভিনয় করার সময় কিয়ারাকে কি তবে মাদার টেরেজার চরিত্রে প্রত্যাশা করছিলেন সমালোচকরা? চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয় করা একজন শিল্পীর কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়, যা দর্শক হিসেবে অনেকেরই বোঝার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
স্বস্তিকার মতে, সিনেমা না দেখেই কিংবা গল্পের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে না জেনেই অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করাটা এক ধরণের মানসিক সংকীর্ণতা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কেন ওই ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রাখা হয়েছে, তা না জেনে অযথা নিন্দা করা শোভন নয়। বরং পুরো সিনেমা দেখার পর সমালোচনার অধিকার জন্মাতে পারে।
ভারতীয় সমাজে যৌনতাকে এখনও একটি বড় ‘ট্যাবু’ বা সামাজিক সংস্কার হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে বলেই মনে করেন স্বস্তিকা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটি যে জৈবিক এবং স্বাভাবিক, তা ভুলে গিয়ে মানুষ যৌনতাকে কলুষিত চোখে দেখে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রক্ষণশীল মানসিকতা যে একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রভাবিত করার সুযোগ রাখে না, তা নিজের ক্ষুরধার যুক্তিতে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন স্বস্তিকা।
