জ্যাকুলিনকে ছাড়ার জন্য নোরা চাপ দিতেন বলে বিস্ফোরক দাবি সুকেশের

বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় ফের একবার ধোঁয়াশা আর বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রূপালি পর্দার গ্ল্যামারাস ডিভা নোরা ফাতেহি এবং আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর। তিহার কারাগারের চার দেয়াল থেকে পাঠানো সুকেশের এক বিস্ফোরক চিঠিতে নোরার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে গুরুতর সব অভিযোগ, যা রীতিমতো আলোড়ন তুলেছে বিনোদন অঙ্গনে। সুকেশের দাবি, নোরা ফাতেহি তাঁকে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিতেন এবং দিনে অন্তত দশবার ফোন করে নিজেদের ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার চেষ্টা করতেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ২০০ কোটি রুপির আর্থিক তছরুপের এই মামলায় নোরার অবস্থান নিয়ে বরাবরই ছিল নানা প্রশ্ন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নোরা জানিয়েছিলেন, সুকেশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাঁকে যে মানসিক যন্ত্রণা ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা বর্ণনাতীত। নোরার সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সুকেশের এই চিঠি যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। সুকেশ স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরার হাতে কোটি কোটি টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কেবল তাই নয়, বিলাসবহুল বারকিন ব্যাগ থেকে শুরু করে দামী গাড়ি—বিলাসবহুল জীবনযাপনের যাবতীয় খরচ মেটানোর জন্য নোরা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন বলেও অভিযোগ এই প্রতারকের।
সুকেশের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন এবং বিভিন্ন উপহারের লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। নোরার সাম্প্রতিক বয়ানকে ‘কুমিরের কান্না’ ও সস্তা ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করে সুকেশ তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অযথা তাঁকে উসকে না দিতে। সুকেশের এই ঝাঁঝালো বক্তব্যের পর নোরার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নোরা অবশ্য বারবার নিজেকে এই মামলার পরিস্থিতির শিকার এবং নির্দোষ সাক্ষী হিসেবে দাবি করে আসছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, জনসমক্ষে আসা নোরার বক্তব্য আর কারাগারে বসে সুকেশের করা এই পালটা দাবির সত্যতা কতটুকু? তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে থাকা এই বিতর্কিত সম্পর্কের সমীকরণ যে দিন দিন জটিল হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। সুকেশের হুমকির পর ভবিষ্যতে তিনি আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিনোদন দুনিয়ার দর্শক এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে নোরা ফাতেহির ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত ইমেজ নিয়ে এই নতুন বিতর্ক যে বলিউডের অন্দরমহলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।
