Advertisement

সন্দ্বীপে অচল সি-অ্যাম্বুলেন্স, মুমূর্ষু বৃদ্ধার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে মুমূর্ষু বৃদ্ধা মাকে নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ৮০ বছর বয়সী রওশন আরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে রোববার সকালে তাকে সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

উপকূলীয় এই জনপদে জরুরি রোগী স্থানান্তরের জন্য কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই স্পিডবোটে যাত্রা করেন। উত্তাল ঢেউ আর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সাদা পলিথিন দিয়ে ঢাকা বৃদ্ধার শরীর এবং হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার জড়িয়ে ধরে রাখা মর্মান্তিক দৃশ্যটি সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ছেলে জাহাঙ্গীর আক্ষেপ করে জানান, জরুরি সেবা পাওয়ার ন্যূনতম সুযোগ না থাকায় নিরুপায় হয়েই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের রোগীদের জন্য বরাদ্দ দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যা দ্বীপবাসীর চরম ভোগান্তির অন্যতম কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৮ সালে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি গুপ্তছড়া ঘাটের কেওড়া বাগানে এবং ২০১৫ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দেওয়া অপর অ্যাম্বুলেন্সটি হারামিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগীদের সেবায় কোনো দিনই কাজে আসেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অচল অ্যাম্বুলেন্সগুলোর পরিবর্তে নতুন একটি সি-অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারংবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। দ্বীপের স্বাস্থ্যসেবায় এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ এমন জীবনের ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%