Advertisement

কেন এখনো বিশ্বজুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পাইডার-ম্যান

সুপারহিরো ঘরানার চলচ্চিত্রের বাজারে যখন ক্লান্তি ও একঘেয়েমি জেঁকে বসেছিল, তখন ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ যেন এক জাদুকরী নিরাময় হয়ে হাজির হলো। ২০২১ সালের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৪ মিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড গড়ে ছবিটি প্রমাণ করল, মাকড়সা মানবকে ঘিরে দর্শকদের আবেগ আজও অমলিন। পর্দায় টম হল্যান্ড, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং টোবি ম্যাগুইরের সেই অভাবনীয় ত্রিবেণী সঙ্গম কেবল একটি সিনেমা ছিল না, বরং ছিল এক রাজকীয় পুনর্মিলন, যা সুপারহিরো সিনেমার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।

‘স্পাইডার-ম্যান’-এর এই বিপুল জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে চরিত্রটির সঙ্গে সাধারণ মানুষের অদ্ভুত এক সংযোগ। ১৯৬২ সালে স্ট্যান লি যখন এই চরিত্রটি নিয়ে এসেছিলেন, তখন কে জানত যে এটি ‘সুপারম্যান’ বা ‘ব্যাটম্যান’-এর মতো কিংবদন্তি চরিত্রগুলোর উত্তরাধিকারকে চ্যালেঞ্জ জানাবে? সুপারম্যান যেখানে অতিমানবীয় শক্তির প্রতীক এবং ব্যাটম্যান যেখানে অন্ধকার ও একাকিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানে স্পাইডার-ম্যান এই দুইয়ের এক চমৎকার আধ্যাত্মিক সংমিশ্রণ। সে একই সঙ্গে আশাবাদী এবং মানসিকভাবে আহত, যে কিনা নিজের নিয়তি খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত লিপ্ত।

বিজ্ঞাপন

টম হল্যান্ডের সাবলীল অভিনয় চরিত্রটিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। পিটার পার্কারের বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তি, প্রেম ও গোপনীয়তা রক্ষার টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে হল্যান্ড চরিত্রটিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে দর্শক নিজেকেই খুঁজে পায়। একজন স্কুলছাত্র থেকে বিশ্বজয়ী সুপারহিরো হয়ে ওঠার পথটি তার কাছে যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই মানবিক। বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক শহরের গলি থেকে সুউচ্চ ভবনের চূড়ায় তার জাল ছুঁড়ে দুলতে থাকার দৃশ্যটি কেবল একটি অ্যাকশন সিকোয়েন্স নয়, বরং এটি যেন আমাদের নিজেদের জীবনের অনিশ্চয়তা ও ভারসাম্যের প্রতীক।

বর্তমান অস্থির সময়ে আমরা যখন নিজের পরিচয় নিয়ে দ্বিধায় ভুগি, ঠিক সেই মুহূর্তে ‘স্পাইডার-ম্যান’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও আলো জ্বালিয়ে রাখা সম্ভব। সে অজেয় কোনো দেবতা নয়; সে আমাদেরই মতো ভুল করে, ভয় পায়, আবার সব প্রতিকূলতাকে জয় করে নতুন উদ্যমে ফিরে আসে। মাকড়সার জাল দিয়ে নিজেকে আটকে রাখার মতো করে সে আমাদের জীবনবোধকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে।

বিজ্ঞাপন

সুপারহিরোর ভিড়ে ঠাসা এই যুগে একজন সাধারণ মানুষের মতো আবেগ ও সংকটে ঘেরা স্পাইডার-ম্যান তাই আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সে আমাদের ভয় ও স্বপ্ন—দুটোর সঙ্গেই কথা বলে। এই অমোঘ আকর্ষণের কারণেই বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও স্পাইডার-ম্যান মানেই দর্শকদের কাছে এক অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং রূপালি পর্দার চিরসবুজ রোমাঞ্চ।

0%
0%
0%
0%