অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে ইন্ডিয়ান আইডল থেকে বাদ পড়েছিলেন মিনি মাথুর

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কঠোর বাস্তবতা আর বৈষম্যের তিক্ত অভিজ্ঞতার গল্প। সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালিকা ও অভিনেত্রী মিনি মাথুর। তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর পঞ্চম মৌসুমে সঞ্চালনার সুযোগ হারানোর নেপথ্যের সেই বিতর্কিত অধ্যায়। মাতৃত্বের এক আনন্দঘন মুহূর্তে ক্যারিয়ারের চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন তিনি, যা বিনোদন অঙ্গনে এক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘হটারফ্রাই’-এর ‘দ্য মেল ফেমিনিস্ট’ অনুষ্ঠানে খোলামেলা আলাপচারিতায় মিনি জানান, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর চতুর্থ মৌসুম শেষে তিনি যখন দ্বিতীয় সন্তান সাইরাহর মা হওয়ার খবরটি আয়োজকদের জানান, তখন তাঁর প্রত্যাশা ছিল পেশাদার পরিবেশ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। তিনি অকপটে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, অডিশন পর্বে কাজ করলেও ফাইনালের দিকে তাঁর গর্ভাবস্থা কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক। মিনির ভাষ্যমতে, তাঁকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, একজন গর্ভবতী সঞ্চালককে ভারতীয় দর্শক সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবেন না। এই রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে প্রচণ্ড ব্যথিত ও বিস্মিত করেছিল।
সেই সময়কার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মিনিকে মানসিকভাবে অনেকটা দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ষষ্ঠ মৌসুমে তাঁকে পুনরায় সঞ্চালনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আত্মসম্মানবোধ আর মানসিক দূরত্ব থেকে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়ে এমন একটি অভিজ্ঞতার পর তিনি আর আগের মতো আগ্রহ খুঁজে পাননি।
মিনি মাথুর শুধুমাত্র একজন সফল সঞ্চালিকাই নন, বরং এমটিভির ভিজে থেকে শুরু করে ‘মাইন্ড দ্য মালহোত্রাস’-এর মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিখ্যাত পরিচালক কবির খানের সাথে তাঁর ২৮ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিনোদন মহলে বেশ চর্চিত। এক যৌথ কর্মক্ষেত্রে ক্যামেরার পেছনের সেই পরিচয় থেকে প্রেম আর তারপর জীবনসঙ্গী হওয়ার গল্পটাও রূপকথার চেয়ে কম নয়। পেশাগতভাবে আলাদা থেকে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার তাঁরা করেছিলেন, তা আজও বলিউডের অন্যতম সফল দম্পতির উদাহরণ হিসেবে টিকে আছে। মিনির এই সাহসী স্বীকারোক্তি আবারো মনে করিয়ে দিল, শোবিজের গ্ল্যামারাস পর্দার আড়ালে নারীদের প্রতিনিয়ত কতটা অদৃশ্য দেয়াল অতিক্রম করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে হয়।
