ঠান্ডা পানীয়তে আরশোলা নিয়ে সরব হয়ে সাইবার আক্রমণের শিকার অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাল ঢেউ তুলেছেন। ঘটনার সূত্রপাত একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ঠান্ডা পানীয়তে আরশোলা পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অস্বাস্থ্যকর এই পানীয়র বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষুব্ধ শ্বেতা মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুকারাম মুন্ধেকে ট্যাগ করে অভিযোগ জানান। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন এবং এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কিন্তু একটি সচেতনতামূলক প্রতিবাদ যে অভিনেত্রীর জন্য চরম বিড়ম্বনা বয়ে আনবে, তা বোধহয় তিনি ভাবতেও পারেননি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই মারাঠি সম্প্রদায়ের একাংশ এবং রাজ ঠাকরের অনুসারীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অকথ্য ভাষায় আক্রমণ ও ট্রোলিং শুরু হয়, যা তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক দীর্ঘ পোস্টে শ্বেতা তাঁর ক্ষোভ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষিত ও সচেতন পুরুষ কীভাবে কোনো নারীকে লক্ষ্য করে এতটা নোংরা ও কুরুচিকর মন্তব্য করতে পারেন। বিশেষ করে যখন এসব মানুষের বাড়িতেও মা কিংবা বোন রয়েছেন, তখন তাদের এই আচরণ সমাজ ও সংস্কৃতির অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তোলে।
যারা তাঁকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তাদের নাম ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করে অভিনেত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর বাবাও একজন মারাঠি এবং তিনি সবসময়ই মারাঠি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা তাঁর সেই বিশ্বাসে গভীর আঘাত করেছে। শ্বেতার মতে, সত্যিকারের মারাঠি সংস্কৃতি নারীদের সম্মান করতে শেখায়, যারা এই নোংরা ভাষা ব্যবহার করছেন তারা আদতে কোনো আদর্শের প্রতিনিধি হতে পারেন না।
সবশেষে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন রাজ ঠাকরের দিকে। তিনি জানতে চেয়েছেন, তাঁর দলের সমর্থকরা যদি এ ধরনের অশালীন আচরণের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে সেই দায়ভার তিনি নেবেন কি না? একজন নারীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হেনস্তা করা যে কোনো সুস্থ সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না, সেই সত্যই বারবার উঠে এসেছে শ্বেতার বক্তব্যে। বিনোদন দুনিয়ায় এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নটি।
