প্রেমের বিবর্তন ও বার্ধক্যেও কৈশোরের আবেগ নিয়ে কবিতা লিখলেন অপরাজিতা আঢ্য

প্রেমের অমোঘ টান আর জীবনের নানা বাঁক নিয়ে বরাবরই নিজের ভাবনার অনন্য প্রতিফলন ঘটান টলিউডের অনবদ্য অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক দেওয়ালে তিনি ভাগ করে নিয়েছেন জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতায় মোড়া এক মিষ্টি ও প্রাণবন্ত কবিতা, যেখানে উঠে এসেছে কৈশোরের রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে বিবাহিত জীবনের রূঢ় বাস্তবতা এবং পঞ্চাশোর্ধ বয়সের হৃদয়ে জমে থাকা চিরযৌবনের স্পন্দন।
লেখার শুরুতে অপরাজিতা তুলে ধরেছেন প্রেমের সেই আদিম এবং সরল অধ্যায়গুলোকে। স্কুলের খাতার পাতায় লুকিয়ে প্রেমিকের নাম লেখা কিংবা নিভৃতে গোলাপ আঁকার সেই আবেগি দিনগুলো, এরপর কলেজের ক্যানটিনে কাটানো সোনালী মুহূর্ত—ভালোবাসার প্রতিটি ধাপকে তিনি ছন্দময় ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত নিপুণতায়।
তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন কথা ওঠে বিয়ের পরবর্তী জীবনের বাস্তবতাকে নিয়ে। অভিনেত্রীর ভাষায়, বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর রোমান্টিক কল্পনার গোলাপ ঝরে গিয়ে হাতে উঠে আসে দীর্ঘ বাজারের ফর্দ। মায়া ও মোহ কাটিয়ে জীবনের সাথে লড়াইয়ের এই কঠিন সত্যটুকু তিনি পরম মমতায় বর্ণনা করেছেন নিজের ছন্দে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো বয়সের বেড়াজাল ডিঙিয়ে মনের চিরসবুজ হয়ে থাকার বিষয়টি। অপরাজিতার লেখনী বলছে, পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছে হাঁটুর ব্যথা বা চশমার পাওয়ার বাড়লেও, প্রিয়জনের কাছ থেকে আসা একটা ছোট্ট ‘হাই’ মেসেজে এখনো হৃদপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয়। কৈশোরের সেই ক্লাস এইটের চঞ্চল মনটা যেন আজও বুকের ভেতর ডুকরে ওঠে, যেখানে বয়সের হিসেব-নিকেশের কোনো স্থান নেই। প্রেম তো আসলে এভাবেই মনের অন্দরে মিষ্টি এক সর্বনাশ ডেকে আনে!
অপরাজিতার এই বাস্তববাদী ও রসময় কবিতাটি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশের পরপরই অনুরাগীদের ভালোবাসা ও প্রশংসার জোয়ারে ভেসেছে। জীবনের গভীর সত্যগুলোকে এত সহজ-সরল ও মায়াবী ছন্দে উপস্থাপনের জন্য নেটিজেনরা তাঁকে ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছেন। টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর কলম দিয়ে ঝরে পড়া এমন ছন্দময় উপলব্ধি যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, প্রেম ও জীবন—দুটির কোনোটিই কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা নয়।
