তীব্র উদ্বেগের লড়াই ও ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে মুখ খুললেন প্রিন্স নারুলা

ভারতীয় রিয়েলিটি শোর মুকুটহীন সম্রাট হিসেবে পরিচিত প্রিন্স নারুলা এবার নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা জানালেন অকপটে। গ্ল্যামারের চাকচিক্যের আড়ালে যে মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তিনি পার হয়েছেন, তা জেনে অবাক তাঁর ভক্তকুল। এক সময় তীব্র উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি তাঁকে এতটাই গ্রাস করেছিল যে, টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন গ্রহণ করতে হতো আঠারোটি ওষুধ। হৃৎকম্পন, অকারণে ভয় পাওয়া আর ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো শারীরিক জটিলতায় বিপর্যস্ত প্রিন্স এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদির উপস্থাপনায় ‘ডাবল ডেট’ অনুষ্ঠানে এসে প্রিন্স স্মৃতিচারণ করেন সেই কঠিন দিনগুলোর। তিনি জানান, সেই সময়টায় মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে তিনি সংগীতের আশ্রয়ে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। তবে এই লড়াইয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ ছিলেন তাঁর স্ত্রী যুবিকা চৌধুরী। সম্পর্কের তিক্ততা এক পর্যায়ে এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে বিচ্ছেদের চিন্তাও তাঁদের দুজনকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। প্রিন্সের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তাঁদের কারোরই কোনো দোষ ছিল না, কেবল পরিস্থিতির চাপে পড়ে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তবে সময়ের স্রোতে আজ সেই মেঘ কেটে গেছে। বাবা হওয়ার পর প্রিন্স ও যুবিকার জীবন এক নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে। এখন তাঁদের দাম্পত্য কলহ হয় না বললেই চলে; বরং মেয়ের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালেই সব তিক্ততা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তাঁরা এক সুখী পরিবারের ছায়াতলে। ‘এমটিভি রোডিজ’, ‘বিগ বস’ কিংবা ‘নাচ বালিয়ে’-এর মঞ্চ কাঁপানো এই তারকার জীবনের এই রূপান্তর যেন নতুন প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।