ছাত্র আন্দোলনের সমাপ্তির আহ্বান জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সালমান খান

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমতো ট্রলের মুখে পড়লেন বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খান। বুধবার আন্দোলনের সমর্থনে সরব হওয়ার ঠিক পরদিন রাতেই সুর পাল্টে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এই সুপারস্টার।

বিজ্ঞাপন

নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে সালমান খান লিখেছেন, পড়াশোনা এবং নিরাপত্তার বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার আকুল আবেদন ছিল, তারা যেন আন্দোলন স্থগিত করে মা-বাবার কাছে ফিরে যান।

শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, একই পোস্টে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককেও অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান সালমান। সোনমকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, এই বিষয়টিকে আর টেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং প্রয়োজন হলে এই মনোবল অন্য কোনো দিনের জন্য জমিয়ে রাখা ভালো। এমনকি রসিকতা করে তিনি নিজের বাড়ি থেকে খাবার পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। সালমানের এই অবস্থান গ্রহণের পরই অন্তর্জালে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

তার এই ভোল পাল্টানো মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ সালমানকে ‘রাজনৈতিকভাবে হাইজ্যাক’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, আবার কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, এই পোস্টটি তার সাম্প্রতিক তিনটি ফ্লপ ছবির চেয়েও খারাপ হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী তো বলেই ফেলেছেন যে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্ট বুঝতে হলে আগে তাকে বিয়ে করে বাবা হতে হবে। আবার অন্য একজন সালমানের সিনেমার নাম বদলানোর অভ্যাসের সঙ্গে তুলনা করে তাকে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েননি।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য সমালোচনার পাশাপাশি প্রিয় তারকার এমন বার্তাকে যারা সমর্থন করেছেন, তাদের সংখ্যাও কম নয়। অনেক ভক্তই লিখেছেন, ভাই যখন বলেছেন তখন সেটাই করা উচিত। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস পেয়ে ২৬ দিন ধরে চলা অনশন ভঙ্গ করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সব মিলিয়ে সালমান খানের এই অপ্রত্যাশিত পোস্ট ঘিরে উত্তাল বি-টাউনের ভার্চুয়াল আঙিনা।

0%
0%
0%
0%