নবমীতে মল্লিকবাড়ির নারকেল নাড়ুতে মুগ্ধ শুভেন্দু

শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীর এক মায়াবী সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যমণ্ডিত ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ির আঙিনায় বসেছিল তারকাসমৃদ্ধ এক জমকালো আসর। নির্ধারিত দিনে এই বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো প্রাঙ্গণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে উৎসবের আমেজকে দ্বিগুণ করে তোলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মল্লিক পরিবারের প্রাচীন এই দুর্গোৎসাবের জাঁকজমক ও পরিপাটি আয়োজন দেখে নিজের মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি তিনি।

পরিবারের প্রবীণ ও বরেণ্য অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে এই পুজোয় এসে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে শুভেন্দু অধিকারী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বিশেষ আহ্বানেই তাঁর এই উপস্থিতি, যার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের যোগ নেই। দীর্ঘ ব্যস্ততা কাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন বাড়িতে এসে নারকেল নাড়ুর স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ঘুরে দেখেন পুরো মণ্ডপ। প্রমোটারদের হাতে পৈতৃক ভিটে তুলে না দিয়ে আজও শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে যেভাবে মল্লিক পরিবার পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

১৯২৫ সালে সুরেন্দ্রমাধব মল্লিকের হাত ধরে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তাঁদের আদি নিবাসে শুরু হওয়া এই পুজো কালের পরিক্রমায় ভবানীপুরের এই ঐতিহাসিক বাড়িতে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। জন্মাষ্টমীতে কাঠামোপুজোর মধ্য দিয়ে যে প্রস্তুতির সূচনা হয়, তা একচালা সাবেকি প্রতিমা এবং ডাকের সাজে পূর্ণতা পায়। এই পুজোর প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে রয়েছে এক অনন্য পারিবারিক মেলবন্ধন—যেখানে দেবীর গায়ে সোনার অলঙ্কার পরানোর দায়িত্ব থাকে বাড়ির মেয়েদের কাঁধে, আর অস্ত্র তুলে দেন পুরুষ সদস্যরা।

ষষ্ঠী থেকে নবমী—চার দিন ধরে পুরো পরিবার নিরামিশ আহারে অভ্যস্ত থাকলেও দশমীর বিশেষ ভোজে মেটে চচ্চড়ির আকর্ষণ থাকে সবার উপরে। ঢাকের বাদ্যি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত এই বনেদি বাড়ির উৎসবে প্রতিবারই স্বামী নিসপাল সিং এবং দুই ছোট সন্তান কাব্যা ও কবীরকে নিয়ে মেতে ওঠেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কোয়েল মল্লিক। অনুরাগীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই তারকাপরিবারের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং পূজার এই সুপ্রাচীন আবহ মল্লিকবাড়ির দুর্গোৎসবকে প্রতিবারই করে তোলে অনন্য ও অবিস্মরণীয়।

০%
০%
০%
০%