নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানির পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে মালামাল লুটের অভিযোগ

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহত যাত্রীদের মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের মতো অমানবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় বাসের ভেতরের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলাকালীন সময়ে কতিপয় দুষ্কৃতকারী আহত ও মৃত যাত্রীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ করেন বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা। বাসের ভেতরে গুরুতর আহত অবস্থায় আটকা পড়া যাত্রী রাকিব হোসেন জানান, চেতনা ফেরার পর তিনি নিজ চোখেই কয়েকজনকে যাত্রীদের পকেট ও ব্যাগ হাতড়ে সর্বস্ব নিয়ে যেতে দেখেছেন। সে সময় নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না।

তবে এই অমানবিকতার বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে এই দুর্ঘটনা ও হতাহতের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মালামাল লুটের অভিযোগের বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি আহত যাত্রীদের কাছ থেকে জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে কিছু হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তচান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বহু মানুষ মানবতার টানে সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও কিছু সুযোগসন্ধানী এই পরিস্থিতির অপব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বারবার এমন সড়ক দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি ও লুটপাটের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%