ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র প্যারিস রোডে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বুলবুল রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সূত্র জানায়, উর্দু বিভাগের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদের ক্লাসে উপস্থিতির হার ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাকে ‘ডিসকলেজিয়েট’ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে তার চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসানোর সুপারিশ নিয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরও বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি অপারগতা প্রকাশ করলে বুলবুল চড়াও হন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার একপর্যায়ে তিনি নিজের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে বুলবুল তা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। জনসমক্ষে তাকে শারীরিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে হাত ধরে টানাটানি করা হয় এবং চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয়। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুলবুল মূলত এই বিভাগেরই সাবেক ছাত্র এবং সে এখানে শিক্ষক হওয়ার লোভ লালন করে। কিন্তু অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় সে আবেদন করতে পারেনি। সেই ক্ষোভ থেকেই সে দীর্ঘদিন ধরে এমন একগুঁয়ে ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা পোষণ করে আসছে। প্রকাশ্যে এমন অশোভন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান বলেন, অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ক্লাস করতে না পারা এক ছোট ভাইয়ের মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি শুধু সভাপতির কাছে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সবার সামনে এ ধরনের আপত্তিকর ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষক হেনস্তার এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে জানান, বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।