সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমান (৪০) নামের আরও এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বুধবার ভোরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে এই সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলেই নিহত হন তাঁর চাচাতো ভাই মতিউর রহমান (৫০)। নিহত উভয় ব্যক্তিই উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (চন্ডি হেদায়েতপুর) গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীরের সঙ্গে একই গ্রামের আছির উল্লাহর ছেলে আবুল কাশেমের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং এর জেরে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছুলফির আঘাতে আলমগীরের পক্ষের কৃষক মতিউর রহমান বুকে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় মতিউর রহমানের পক্ষের মুজিবুর রহমান ও আতাউর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে বুধবার ভোরে মুজিবুর রহমানও মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক পুরুষ ও তিন নারীসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।