শিবগঞ্জে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা

বগুড়ার শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে বাসে করে জয়পুরহাটে ১০টি ২৪ ক্যারেটের তেজাবি স্বর্ণের বার পাঠান, যার মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। পথিমধ্যে শিবগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুকৌশলে বাসটি থামিয়ে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন, যার এফআইআর নম্বর ৩৩।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর কবির ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাধীন তরীনয়হাট এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানাধীন মহিলা কলেজ এলাকা থেকে মো. আলমগীর হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির নিবিড় ব্যবহারে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানাধীন ভীমপুর এলাকা থেকে তদন্তে সম্পৃক্ত অপর দুই আসামি মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও মো. আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় আসামি সাদিকুল ইসলামের বসতবাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির আরও ১৮ লাখ টাকা এবং আসাদুজ্জামান শাহিদের পাঁচবিবি থানাধীন বড়মানিক গ্রামের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৮৮ লাখ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি এবং রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ছিনতাই চক্রের বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবার।

০%
০%
০%
০%