কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটে বিপর্যস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

কিশোরগঞ্জের দুর্গম হাওর জনপদ অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা তীব্র শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই তিন উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। এছাড়া প্রায় ২২ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় হাওরের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে বসবাসরত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের সন্তানদের শিক্ষাদানের জন্য রয়েছে ২৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৪২৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের অভাবে অধিকাংশ স্কুল দুই শিফটে চালাতে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে, যা তাদের মানসম্মত শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, হাওরের ২৩০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ১৪৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের ১ হাজার ১৫১টি পদের বিপরীতে ১০৭টি পদ খালি থাকলেও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও ১৪৯ জন সহকারী শিক্ষক শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে রয়েছেন। এতে বাস্তবে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬টিতে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই একজন বা দুজন শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শুধু শিক্ষক সংকট নয়, হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ, আধুনিক ওয়াশব্লক ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষক সংকটের কারণে শিশুদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা হাওরের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
অষ্টগ্রামের ৮৩টি, ইটনার ৭২টি ও মিঠামইনের ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। যদিও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ জানিয়েছেন যে, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই এই সংকট নিরসনে অধিদপ্তরের মাধ্যমে পদায়ন শুরু হবে। সরকারি আশ্বাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
