Advertisement

নতুন ভবনের অপেক্ষায় খোলা আকাশের নিচে চিলমারীর ১৮১ শিক্ষার্থীর পাঠদান

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকায় অবস্থিত খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রায় ১০ মাস আগে বিদ্যালয়ের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হলেও অদ্যাবধি নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের ১৮১ জন শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে টিনের ছাপরা, শহীদ মিনারের বেদি কিংবা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে টিনের ছাপরায় গাদাগাদি করে বসে শিক্ষার্থীরা পাঠ নিচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান পুরোপুরি ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীরা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকে। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ১০ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯০ সালে নির্মিত ও পরবর্তীকালে পিডি-২ প্রকল্পের অধীনে বর্ধিত ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে চলতি বছরের ১২ নভেম্বর তা নিলামে ভেঙে ফেলা হয়। নতুন পাঁচ কক্ষের ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, নতুন ভবনের অর্থায়ন নিশ্চিত না করেই কেন তড়িঘড়ি করে পুরাতন ভবন অপসারণ করা হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক নুর মোস্তফা জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি ভেঙে ফেলার পর দুটি টিনশেড ঘরের ব্যবস্থা করা হলেও সব শ্রেণির জন্য তা যথেষ্ট নয়। চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং অস্থায়ীভাবে পাঠদান সচল রাখতে আরও কক্ষ নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, পিডি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, তবে পিডি-৫ প্রকল্প চালু হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়ার আশা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের চরম দুর্দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%