Advertisement

বাকৃবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিপর্যয়, একাডেমিক মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি তথা ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ চালুর দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জেরে মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে দাবি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

সর্বশেষ ফলাফল বিপর্যয়ের শিকার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এ এন এম এহসানুল হক হিমেল জানান, লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সে থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশেই তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। অথচ এর আগে প্রতিটি সেমিস্টারে তার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল এবং কোনো কোর্সে তার ক্যারি বা ফেল ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নম্বরপত্র প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ক্লাস টেস্ট ও উপস্থিতিসহ নিয়মিত কার্যক্রমে ভালো করা সত্ত্বেও এমন ফলাফল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও প্রতিহিংসামূলক।

বিজ্ঞাপন

শুধু হিমেল নন, ভেটেরিনারি সায়েন্স ও পশুপালন অনুষদের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডেইরি সায়েন্স ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধীনে থাকা কোর্সগুলোতে শিক্ষার্থীদের গড়পড়তা ফলাফল আশঙ্কাজনকভাবে খারাপ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অন্য সব কোর্সে ভালো নম্বর পেলেও নির্দিষ্ট কিছু কোর্সে ইচ্ছাকৃতভাবে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে, যা দুই অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পূর্ববর্তী বিরোধের প্রতিফলন বলে তাদের ধারণা।

ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে গত ২৬ জানুয়ারি ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর পৃথক আবেদন জমা দেন শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় প্রশাসন থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে কোনো শিক্ষার্থীকে একাডেমিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না, কিন্তু বর্তমান ফলাফল সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত।

বিজ্ঞাপন

পশুপালন অনুষদের ডিন ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, একাডেমিক মূল্যায়নে ব্যক্তিগত বিরোধ বা আন্দোলনের প্রভাব পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, শিক্ষার্থীরা চাইলে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় আবেদন করতে পারে এবং তিনি এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করবেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা তাদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত বিবরণসহ পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বিদ্যমান স্ট্যাটিউটস ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে একাডেমিক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%