কলকাতার মর্যাদাপূর্ণ সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের চলমান পড়ুয়া আন্দোলন ও ক্যাম্পাসের অশান্তির ঘটনায় এবার সরাসরি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ ও নন্দিত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। শনিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের বিবেকবান নাগরিকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় ৭৬ বছর বয়সী এই প্রবীণ অভিনেতা অভিযোগের সুরে বলেন যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহল নিজেদের মতাদর্শের বাইরে থাকা মানুষের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের সাম্প্রতিক শিকার হয়েছেন এসআরএফটিআই-এর উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্র নির্মাতারা। প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার অপরাধে পড়ুয়াদের অন্যায়ভাবে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে, নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং হস্টেল খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চলচ্চিত্রের এই মহাতারকা আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার কেবল নিজেদের পক্ষে নির্লজ্জ প্রচার চালানোতেই সন্তুষ্ট নয়, বরং তারা দেশের ভবিষ্যৎ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মগজধোলাই করতে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে চাইছে। তবে এই অপচেষ্টা কস্মিনকালেও সফল হবে না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, এই তরুণেরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের আসল সত্য সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তুলবে। এর আগে অস্কার-মনোনীত ও কানজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালিকা পায়েল কাপাডিয়াও এসআরএফটিআই-এর শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বার্তা দিয়ে ক্যাম্পাসের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাসের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে যথাযথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে এবং উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও অবস্থান চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, ১৫ অক্টোবর বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা উপাচার্য ও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হেনস্তা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ইনস্টিটিউট প্রশাসন ক্লাস স্থগিত এবং হস্টেল খালি করার কড়া নির্দেশ জারি করে। প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের এই সাহসী ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও রাজনৈতিক তরজা এখন পুরো দেশের বিনোদন অঙ্গনে এক নতুন ও তীব্র মোড় নিয়েছে।