ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীকে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার নিয়ে এনসিটিবির ব্যাখ্যা ও ছাপার কাজ স্থগিত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বইটির মুদ্রণ ও ছাপার কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে পাঠানো বইগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতীক পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রতীক নির্বাচনের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে বইটির বিষয় বিশেষজ্ঞ ও এনসিটিবির কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এক শিক্ষক শিশুদের জন্য প্রজ্ঞার ধারণাটি অনুধাবন করা কিছুটা কঠিন হতে পারে মর্মে তা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী প্রতীকটি পরিবর্তন করা হলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে পুনরায় দাঁড়িপাল্লাকেই প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রতীক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এই কর্মকর্তা আরও জানান, বইয়ের চিত্রায়নের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে পেশাদার শিল্পী দল নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের একটি দল প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা এঁকে জমা দেয় এবং তিনি তা পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত করেন। ইন্টারনেটে প্রচলিত 'নলেজ পিরামিড' বা জ্ঞানের পিরামিড অনুসন্ধানেও প্রজ্ঞার আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লার উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, চিত্রশিল্পীরা সম্ভবত সেই ধারণা থেকেই এটি অঙ্কন করেছেন।

এ ঘটনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা প্রভাব রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিটিবির এই কর্মকর্তা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো একটি কারিগরি বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকে কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা লেন্স কাজ করার সুযোগ নেই। প্রজ্ঞার শাব্দিক অর্থ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'উইসডম' বা প্রজ্ঞা মূলত ভালো ও মন্দের বিচার করার ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। কেবল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট নয়, বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগেও ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এদিকে ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত এই কর্মকর্তার নিয়োগ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এনসিটিবিতে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথা জানা গেছে। ২০২৪ সালে ক্যাডার হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর মাত্র এক মাস কলেজে দায়িত্ব পালন করেই তিনি সরাসরি এনসিটিবিতে পদায়ন পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করেন, তুলনামূলক নবীন ও কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি কাজের দায়িত্ব দেওয়া সঠিক হয়নি। পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাঠ্যপুস্তকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

০%
০%
০%
০%